সমকামিতা নিয়ে ইসলাম যা বলে

ইসলামিক জ্ঞান 25-02-2020 05:45 pm 25
সমকামিতা নিয়ে ইসলাম যা বলে

একটা পুরুষের সাথে পুরুষের বা একটি মেয়ের সাথে মেয়ের মানসিক ও শারীরিক আকর্ষণবোধকেই সাধারণ অর্থে সমকামীতা হিসেবে ধরা হয়।অনেকেই সমকামিতা নিয়ে বেজায় বিব্রত থাকেন। নাম শুনলেই আঁতকে উঠেন।
কাঠমোল্লারা তো গালি দিয়ে খালাস- সমকামিরা হচ্ছে খচ্চর স্বভাবের, কুৎসিৎ রুচিপূর্ন, মানসিক বিকারগ্রস্ত। এমনকি প্রগতিশীলদের মধ্যেও রয়েছে নানা রকম ওজর আপত্তি। যারা শিক্ষিত, ‘আধুনিক’ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন, গে লেজবিয়ন ইত্যকার তথাকথিত ‘পশ্চিমা’

AD: নিজের নামে ওয়েবসাইট তৈরি করতে এখনি যোগাযোগ করুনঃ 01788-076677

শব্দের সাথে কমবেশি পরিচিত হয়েছেন, তারাও খুব কমই ব্যাপারটিকে মন থেকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নিতে পারেন। তাদের অনেকেই এখনো ব্যাপারটিকে ‘প্রকৃতি বিরুদ্ধ’ মনে করেন, আর নয়ত ভাবেন – পুরো ব্যাপারটি উৎকট ধরনের ব্যাতিক্রমধর্মী কিছু, এ নিয়ে ‘ভদ্র সমাজে’ যত কম আলোচনা করা যায় ততই মঙ্গল।
তবে কোন পুরুষ বা নারী সমকামী হয়, তা নিয়ে বাংলাদেশে বিতর্ক রয়েছে। নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রচলিত যে সম্পর্ক তার বাইরে এই ধরনের আকাঙ্ক্ষা কি একটি মানুষের বয়ঃসন্ধিকাল থেকে শুরু হয়, না তারা জন্মগত ভাবে এই বৈশিষ্ট্য নিয়েই জন্মায়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক শাহনুর হোসেন বলেন, একটা বয়সের পর যখন তারা দেখে তাদের অন্য বন্ধুরা মেয়েদের ব্যাপারে আগ্রহ বোধ করছে, তখন তাদের ক্ষেত্রে হয় উল্টোটা। তারা ছেলেদের ব্যাপারে আগ্রহ বোধ করে। “এটা জন্মগত, না হরমোনাল, না মানসিক সেটা বলা কঠিন”
মানুষ সামাজিব জীব। সমাজ বদ্ধ হয়ে পরিবারসহ বসবাস করে মানুষ। পরিবার মানুষের সমাজবব্ধ জীবন যাপনের একটি সুস্থ প্রক্রিয়া। সাভাবিক নিয়মে মানুষ বিয়ে করে, সন্তান-সন্তুতি গ্রহণ করে এবং সাভাবিক নিয়মে ইনতিকাল করে পৃথিবী নামক জগত থেকে বিদায় নেয়। মানুষের এই জাগতিক জীবনে পরিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরিবারহীন মানব জীবন একটি অর্ন্তসারশূন্য জীবন। আর এই পারিবারিক জীবনের সুস্থ ভিত্তি হলো বিবাহ বা ম্যারেজ। পরকালীন ও ইহকালীর শান্তি ও কামিয়াবি অর্জনের জন্যই মানুষ নিজেদেরকে বৈধ ও অবৈধতার সীমারেখায় আবদ্ধ রাখে।
আর এ গুণটিই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছে। দিয়েছে আশরাফুল মাখলুকাত উপাধি। কিন্তু একজন মানুষও যখন লাগামহীন হয়ে যায়, তার শ্রেষ্ঠত্ব কি আর থাকে তখন?
মানবজাতির পরিবার গঠনের সাভাবিক নিয়ম হলো- একজন নারীকে বৈধভাবে বিবাহ করবে এবং পুরুষ এবং এই নারী ও পুরুষের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ফলাফল স্বরূপ বংশ বিস্তার ঘটবে। একজন নারী গর্ভধারীনী হবে এবং বাবা মা-সন্তানের পরিপালনের দায়িত্বভার কাধে তুলে নিবেন- এই তো একটি সুন্দর মানবজীবন। একটি সুন্দর পরিবার। একটি আদর্শ সংসার। এই সংসারটি একদিক থেকে যেমন সামাজিক পরিবেশবান্ধব, অপরদিক থেকে মানুষের যৌন চাহিদা পুরণের উত্তম ব্যবস্থাপনা। এটাই সুস্থ বিবেকের দাবি।
বর্তমান সময় সমকামিতার নামে বিশ্বব্যাপি কুপ্রথা চালু হয়েছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো- বন্য জন্তু-জানোয়ারও তাদের যৌন চাহিদা মিটানোর জন্য স্বাভাবিক নিয়মে বিপরীত লিঙ্গের দ্বারস্থ হয়। কুকুর-বিড়ালও সমলিঙ্গের কারো সঙ্গে যৌন চাহিদা পূরণে সামান্যতম আগ্রহী নয়। সেখানে আশরাফুল মাখলুকাত সমকামিতার অপরাধের মতো ঘৃণ্য কাজটিকেই ‘আধুনিকতা’ এবং ‘অধিকারের’ কথা বলে অব্যাহতভাবে পাপাচারকে প্রসারিত করছে! এই ধরনের মানুষকে উদ্দেশ্য করেই পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মহান ইরশাদ করেছেন, তারা চতুষ্পদ জন্তু-জানোয়ারের মতো, বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট (সুরা আরাফ- ১৭৯)।
ইতিহাস সাক্ষী- অভিষপ্ত গোষ্ঠি কওমে লুত সমকামের অপরাধে ধ্বংস হয়েছিল। হজরত লুত তাদেরকে বার বার হালাল পন্থায় নারীদের সঙ্গে যৌন চাহিদা পূরণ করার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কওমবাসী তার কথা শুনেনি। ফলাফল কী হয়েছিলো? আল্লাহ মহান হজরত জিবরাইলকে (আ.) পাঠিয়ে কওম লুতকে আজাব দিলেন। ধ্বংস করে দিলেন একটি জনপদকে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, অতপর যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছল, এরপর যখন আমার সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো, তখন আমি জনপদের উপরিভাগ নিচে এবং নিম্নভাগ উপরে উঠালাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর-পাথর বর্ষণ করলাম। (সুরা হুদ: ৮২)।
কওমে লুতের বস্তির ধ্বংসপ্রাপ্ত রূপই আজকের ‘ডেডসি’ বা মৃত সাগর। এইটাই মর্মান্তিক আজাব দিয়েছিলেন আল্লাহ মহান- আজো সে জনপদে কোনো প্রাণির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।
ইসলামে সমকাম ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য পাপ। মহাঅপরাধ। জঘন্য পাপ। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যাদেরকে তোমরা লুতের সম্প্রদায়ের কাজে (সমকামে) লিপ্ত দেখবে তাদের উভয়কেই হত্যা করো। (তিরমিজি: ৪/৫৭; আবু দাউদ: ৪/২৬৯; ইবনে মাজা: ২/৮৫৬)।
হজরত আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে পুরুষ পুরুষের সাথে নোংরা কাজে লিপ্ত হয়, উভয়ে ব্যভিচারকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। তেমনি যে নারী আরেক নারীর সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত হয় উভয়ে ব্যভিচারকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। (শুয়াবুল ঈমান)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা যদি কাউকে পাও যে লুতের সম্প্রদায় যা করত তা করছে, তবে হত্যা করো। যে করছে তাঁকে আর যাকে করা হচ্ছে তাকেও। (আবু দাউদ ৩৮:৪৪৪৭)
হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, আমি আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা আশঙ্কা করি সেটা হলো লুতের উম্মত যা করত সেটার অনুসরণ করা। (তিরমিজি)
এছাড়া আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- সমাকামিতা ও অবাধ যৌনতাই এইডসের মতো প্রাণঘাতি রোগ বিস্তারের মূল কারণ। তাবরানী ও বায়হাকি শরিফের হাদিসে এসেছে, চার ব্যক্তি সকাল-সন্ধা আল্লাহর গজব ও আক্রোশে পতিত হয়।
মহিলার বেশধারী পুরুষ, পুরুষ বেশধারী মহিলা, পশু মৈথুনকারী এবং সমকামী।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, তারা প্রকাশ্যে অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে থাকে- তখন তাদের মধ্যে এমন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা তাদের পুর্বপুরুষদের মধ্যে ছিল না। (ইবনে মাজা: ২/১৩৩২)।
ইসলাম সমকামিতার ব্যাপারে এত কঠোর কেন? ‘এইডস’ নামক মরণব্যাধির বিস্তার ও ভয়াবহতার দিকে দৃষ্টিপাত করলেই এর উত্তর খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে যায় । এইডস মানবদেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। এর ওষুধ আবিষ্কারের কথা একাধিকবার শুনা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সুতরাং এইডস মানেই নির্ঘাত মৃত্যু। এই রোগটি ১৯৮১ সালে সমকামীদের মধ্যে প্রথম ধরা পরে। (উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সংকলন, পুষ্ঠা- ৯৮)।
সুতরাং একটু ভেবে দেখুন প্লিজ- যারা সমকামিতাকে বৈধতা দিতে চায়, প্রকারান্তরে তারা কি এইডসের মতো মহামারির উত্থানে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করছেন না?

Googleplus Pint

Author

Total Posts: 55
Total Views: 2,817

    সর্বশেষ পাঠকের মন্তব্য

    Please login To write comment